
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ সব অংশীজনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি করে একটি গ্রহণযোগ্য ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো সংশোধনী প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে কমিটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
১২ সদস্যের এই কমিটির প্রথম বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন না। বাকি সদস্যরা বিএনপি ও তাদের মিত্র দলের সংসদ সদস্য। কমিটি গঠনের সময় বিরোধী দল সদস্য মনোনয়ন না দিয়ে কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের যেসব ধারা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো নিয়ে উন্মুক্তভাবে আলোচনা করা হবে। রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, "আমরা উদার ও উন্মুক্ত মনোভাব নিয়ে কাজ করব। সবার মতামত শুনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্ত করে একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিবেদন তৈরি করতে চাই।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবে কমিটি। তবে কমিটি কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব নয়।
বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল চাইলে পরবর্তীতে সদস্য মনোনয়ন দিতে পারে। তারা সদস্য না দিলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের যেকোনো পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনদে যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যেসব বিষয়ে ভিন্নমত বা 'নোট অব ডিসেন্ট' রয়েছে, সেগুলোও পৃথকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আলোচনায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কমিটির আশা, সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে এমন একটি সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা সম্ভব হবে, যা জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে এবং জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।






